দরিদ্রতা নাকি ফ্রিল্যান্সিং!! কে যাবে যাদুঘরে??
বাংলাদেশিদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। সবগুলি যে সত্য তা হয়তো নয়। কিন্তু সবগুলো মিলিয়ে এমন কিছু পাওয়া যাবে যাকে অসত্য বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ‘হুজুগে বাঙ্গাল’ বলে যে কথাটার প্রচলন আছে, সেটা আমাদের জাতয় জীবনে কতটুকু সত্য? যদি বলি ষোল আনার জায়গায় আঠারো আনা তাহলে সেটাও ওই হুজুগে বাঙ্গালেরই একটা বক্তব্য হয়ে দাঁড়াবে। এবার আসি আসল কথায় । ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে যে হুজুগ আমাদের রাষ্ট্রের আমলা থেকে শুরু করে অ-আ জ্ঞাত লোকজন যেভারে আক্রন্ত হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এবার এবার আমাদের দারিদ্রতা অথবা ফ্রিল্যান্সিং যাদুঘরে যাবে। একটু খোলাসা করে বলি-
“লার্নিং এন্ড আর্নিং” নামে একটি প্রজেক্টের কথা শুনেনি বা জানেনা সচেতন মহলে এমন লোক খুবই কম পাওয়া যাবে। সরকারের এই প্রজেক্টে কে কেউ সাধুবাদ করেছেন আবার কেউ কেউ এটা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তবে আমি সাধুবাদ জানায় সরকারের এ বিষয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে। আবার নিন্দা করি এটার কাঠামো এবং কলাকৌশল নিয়ে। এ প্রজেক্টের উদ্দ্যেশ্য মানুষকে “বাড়ি বসে বড়লোক বানানো” । প্রজেক্টের আওতায় আগ্রহি মানুষদেরকে ৭ দিনের বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়া হবে। তারপর তারা আয় করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেসটিনি, ইউনিপেডুতে মানুষ টাকা দিয়ে বড়লোক হওয়ার হুজুগে যে জাতি আক্রান্ত হয়েছিল সে জাতি ৭দিনে বড়লোক হওয়া; তাও আবার ঘরে বসে , এমন কথা শুনলে কতটুকু আক্রান্ত হবে তা সহজেই অনুমেয়। আমাদের দেশের বেশির ভাগ বাবা মা এবং সন্তান এরা সবাই “বড় হবে” বলতে বড় হয়ে ভাল আয় করার মাধ্যমে সচ্ছল জীবন জাপন কে বুঝেন। এ প্রকল্পটি তাদের এখন নতুন চিন্তার খোরাক হবে। তারা ভাববে যে, কি দরকার এতো কষ্ট করে এত টাকা খরচ করে পড়াশুনা করার । তারচেয়ে বরং ভালো এই ট্রেনিং টা নিয়ে ঘরে বসে আয় শুরু করে দেয়। মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা!!
যারা এই প্রজেক্টের সাথে জড়িত তারা কতজন মার্কেটপ্লেস এ নিজের দক্ষতাকে সুনিপুণ ভা্বে উপস্থাপন করেছেন তা প্রশ্নবিদ্ধ । যদি তারা দক্ষ হতেন তবে এ প্রজেক্ট-এর কারিকুলাম তৈরির সময় এটা অবশ্য মাথায় রাখতেন যে ৭ দিনে একটা মানুষকে দক্ষ করা যায় না। আপনাকে যদি এক সপ্তাহের জন্য প্লেন চালনার উপর প্রশিক্ষণ দেয় আপনি কি পাইলট হয়ে যাবেন? রূপকথার আলাদিনের দৈত্য থাকলে পারবেন হয়তো। প্রজেক্টে-এর সেমিনারে উপস্থিত হয়েছেন এমন একজন থেকে শুনা - “একজন ট্রেইনার নাকি বলছিলেন যে তার ওডেক্স এ ১০০০+ একাউন্ট রয়েছে”(আপনাদের মুখে গালি চলে আসলে লেখক দায়ী নয়)। শিক্ষার্থীদের তারা বলছে যে যত কম মূল্যে আবেদন করতে পারবে সেই কাজ পাবে (সূত্র: প্রথম আলো)। তাতে করে ফলাফল কি হবে তার নিম্নে উল্লেখ করছি।
আপনাদের একটা প্রশ্ন করি আপনি কি কখনো কি একটি খোলা দাড়িপাল্লায় এক সের কুনো ব্যাঙ ওজন করতে পারবেন?? এক কথায় উত্তর হবে না। খোলা দাড়ি পাল্লায় যেভাবে কুনো ব্যাঙ ওজন করা যাবে না। তেমনই এই সকল লোকদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না। এরা এখানে চাঁটতে আসছে। এরা যা শিখাচ্ছে তা শিখে শিক্ষার্থীরা মার্কেটপ্লেস এ গিয়ে দক্ষতা অর্জণ ছাড়াই কম মূল্যে বিড করবে। ফলে তাতে তার ও জাতির ভাবমুর্তি খারাপ হবে। যারা ইতিমধ্যে এখানে কাজ করছেন তারাও তাদের সাথে হারিয়ে যাবে। যার ফলে “ফ্রিল্যান্সিং” শব্দটি সুন্দর করে লিখে যাদুঘরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
যেভাবে দারিদ্রতা কে যাদুঘরে পাঠানো যেতে পারে
২০১২ সালে এ সংখ্যা দুই লাখ ৪২ হাজার ২৬৮ জন থাকলেও ২০১৩ সালে তা ৫০ শতাংশ বেড়ে হয় তিন লাখ ৬২ হাজার ৯৪৮ জন (প্রথম আলো)। বর্তমান সংখ্যা অজানা। এই যে যারা ইতি মধ্যে এখানে জড়িয়ে পড়ছেন সরকার যদি এ প্রকল্পটি তাদেরকে বিবেচনায় নিয়ে সাজাতেন এবং যারা ইতি মধ্যে এখানে সফল তাদের কে ডিসিশন মেকার বানিয়ে দিতেন তাহলে হয়তো দারিদ্রতা যাদুঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো। তারা জাড়িয়ে পরছেন তাদের মধ্যে অদক্ষ মানুষগুলোর পেশন অনুযায়ি উচ্চ লেভেলের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাতে করে তারা দক্ষ হয়ে উঠে। তাতে ৭ দিন-৭ মাস সময়ের প্রয়েজন হলেও। তাদের যোগাযোগের দক্ষতা এবং ভাষাগত দক্ষতা অর্জেনের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অনেকেই ফ্রিল্যান্সার থেকে উদ্দ্যোক্তা হবেন এমনটা আশা করেন, সরকার এ প্রকল্পের আওতায় তাদেরকে বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতে পারেন। ইন্টারনেটের মূল্য হ্রাস করে স্পিড বাড়িয়ে দেন। তাহলে আশা করি আমরা দারিদ্রতা কে যাদুঘরে পাঠাতে পারবো।
No comments:
Post a Comment